অভ্যাস বা অনুশীলনের ফলে আচরণের তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনকে শিক্ষণ বলে।
শিক্ষণ ও কর্মসম্পাদন দুটি আলাদা বিষয় হলেও এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। অভ্যাস ও অনুশীলনের ফলে আচরণের ধারার তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনই হলো শিক্ষণ। অপরদিকে, আচরণের এ পরিবর্তন করা যায় কর্মসম্পাদনের মাধ্যমে। কোনো ব্যক্তি একটি বিশেষ মুহূর্তে যা করে তাই কর্মসম্পাদন।
শিক্ষণ হলো কি না অথবা কতটুকু শিক্ষণ হলো তা পরিমাপ করা হয় কর্মসম্পাদানের সাহায্যে। সুতরাং বলা যায় যে, শিক্ষণ ও কর্মসম্পাদন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ সবুজের বাইসাইকেল পাওয়ার পিছনে শিক্ষণের বলবর্ধক উপাদানের ভূমিকা আছে।
শিক্ষণের ক্ষেত্রে বলবর্ধক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ, বলবর্ধকের প্রেক্ষিতে আচরণ গতিশীল হয় এবং সন্তুষ্টি লাভ বা নির্দিষ্ট বলবর্ধক প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে এই শিক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যেমন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক যে প্রশ্নের অবতারণা করেন, সেই প্রশ্নের সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যদি প্রশংসিত বা কোনো উপহার প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে তবে শিক্ষার্থীরা সেই সমাধানে অধিক অগ্রগামী হয়, যা শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এর বর্ণনায় দেখা যায়, সবুজকে তার বাবা বলেছেন যে, এবার বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হতে পারলে তাকে একটি বাইসাইকেল কিনে দেবেন। এখানে বাইসাইকেলটি বলবর্ধক হিসেবে কাজ করেছে। পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্য বাইসাইকেলটি উপহার বা বলবৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে সবুজ কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ 'ক' চিহ্নিত স্থানে অন্তর্দৃষ্টিমূলক বা পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণ ও 'ঘ' চিহ্নিত স্থানে প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিম্নে এ দুই শিক্ষণ প্রক্রিয়ার পার্থক্য নির্দেশিত
হলো:
শিক্ষণের জন্য প্রেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলেও এমন অনেক ক্ষেত্র আছে, যেখানে প্রেষণা ছাড়াই শিক্ষণ সম্পন্ন হয়। প্রেষণা ব্যতীত এ 'ধরনের শিক্ষণকে প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ বলা হয়। অর্থাৎ প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ হলো এমন ধরনের শিক্ষণ, যা উদ্দেশ্যবিহীনভাবে, কোনো ঘটনা বা প্রসঙ্গক্রমে, অথবা আকস্মিক কোনো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন। যেমন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে নতুন কোনো শব্দ বা বিষয় সম্পর্কে শোনা এবং পরবর্তী সময়ে তা মনে করতে পারা।
পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণ হলো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা শিক্ষণের আলোকে নতুন কোনো পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই নতুন কোনো সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন শিক্ষণ প্রক্রিয়া। এই শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় অন্ধ যান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হয়। এটি মূলত পরিস্থিতির পারস্পরিক সম্পর্ক অনুধাবন ও সামগ্রিক অন্তর্দৃষ্টির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী
কোহলার একটি কুকুর ও একটি মুরগি নিয়ে পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণ প্রক্রিয়ার কার্য পরিচালনা করেন। একটি বেড়ার একপাশে কুকুর বা মুরগি অপর পাশে খাবার রাখা হয়। বেড়াটি এমনভাবে তৈরি যেন এর ছিদ্র দিয়ে বাইরের খাবার দেখা যায় এবং উক্ত ছিদ্র দিয়ে কুকুর বা মুরগি কোনোটাই যেতে না পারে। খাবার পেতে হলে বেড়ার একপাশ দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। ছেড়ে দিতেই কুকুরটি মুহূর্তে ছুটে গিয়ে খাবার খেল, অপরদিকে মুরগিটি সোজাসুজি ছিদ্র পথে গমনের জন্য বারবার চেষ্টা করছিল। কুকুরটি তার স্বীয় বিচার-বুদ্ধি বিবেচনা করে খাবার গ্রহণ করতে সক্ষম হলো কিন্তু মুরগি সক্ষম হয়নি। এ পরীক্ষণে কোহলার দেখিয়েছেন যে, কুকুরটি পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণের পরিচয় দিতে পেরেছিল কিন্তু মুরগি তা পারেনি।
Related Question
View Allখুব সহজভাবে বলতে গেলে স্মৃতি হলো তথ্য সংরক্ষণের এমন ক্ষমতা যা পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যায়।
বলবৃদ্ধি শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে বলে তাকে শিক্ষণের অন্যতম উপাদান বলা হয়। বর্ধন ক্রিয়া বা বলবৃদ্ধি হলো এমন কোনো শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ফলে উদ্দীপক-উদ্দীপক সংযোগ বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। ক্ষুধার্ত প্রাণী সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পর যদি খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর শিখবে না। তবে বলবর্ধক পেলে উক্ত প্রতিক্রিয়াটি সে আরও বেশি করবে। তাই প্রেষণার উপযুক্ত বর্ধনক্রিয়া শিক্ষণের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
উদ্দীপকের মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত 'সংযোগ বা অনুষজ্ঞঙ্গ' ফুটে উঠেছে।
শিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বদাই কতকগুলো সাধারণ শর্ত বা উপাদান উপস্থিত থাকে। এসব শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সংযোগ বা অনুষঙ্গ। প্রকৃতপক্ষে কোনো স্থান বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ঘটনা পাশাপাশি ঘটলেও শিক্ষণ তরান্বিত হয়। দুই ধরনের সংযোগ রয়েছে। যথা-উদ্দীপক সংযোগ; যেমন- আগুন ও ধোঁয়া এ দুটি উদ্দীপক আমরা একইসাথে প্রত্যক্ষ করি। দ্বিতীয়টি উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ যেমন-রাস্তার গাড়ি চালাতে গিয়ে লাল বাতি গাড়ি থামানো এবং সবুজ বাতি দেখে গাড়ি চালানো শুরু করা। এভাবে সংযোগ বা অনুষঙ্গ শিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, একদিন মায়া ঘুম থেকে উঠে তার মাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। পরবর্তীতে জুতার সেলফে মায়ের জুতার অনুপস্থিতি দেখে সে বুঝতে পারে তার অফিসে গেছেন। এখানে দুটো ঘটনার মধ্যে সংযোগ বা অনুষঙ্গ স্থাপিত হয়েছে। প্রথমত, মায়ের অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত জুতার সেলফে জুতা না থাকা এভাবে কোনো স্থানে বা কালে দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক বা যোগাযোগ তৈরি হওয়াকে সংযোগ বা অনুষঙ্গ বলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মায়ার ক্ষেত্রে শিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুষঙ্গ ফুটে উঠেছে।
হ্যাঁ। আমেনা বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
আমরা যা শিখি আর যা কিছু ভুলে যাই এ দুয়ের পার্থক্য হলো স্মৃতি। তবে আমাদের সবার স্মৃতিশক্তি এক রকম নয়। এক রকম না হলেও স্মৃতির বিভিন্ন উপাদান যথা: শিক্ষণ, সংরক্ষণ, পুনরুদ্রেক, প্রত্যভিজ্ঞা প্রভৃতিকে অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতিকে উন্নত করা যায়। স্মৃতিকে উন্নত করার কিছু কৌশল রয়েছে যার মধ্যে আবৃত্তি, যুক্তিনিষ্ঠ শিক্ষণ, সামগ্রিক শিক্ষণ, যথাযথ অনুষঙ্গ, সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি, স্মৃতি, সংকেত, গভীর মনোযোগ, তাল ও ছন্দ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কোনো পাঠ মুখস্থ করার সময়ে একই সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা না করে সময়ের ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি করলে পাঠ-অভ্যাস দ্রুত হয় এবং দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব হয়। কোনো পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে তাল ও ছন্দের উপস্থিতি থাকলে তার সাহায্যে শিখলেও শেখাটি দ্রুত হয়।
প্রদত্ত উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, ছায়া সহজে পড়া মনে রাখতে পারে না। তার মা আমেনা বেগম তাকে একই বিষয় বার বার পড়া, ছন্দের মাধ্যমে মনে রাখা, শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর মাঝে মাঝে পুনরাবৃত্তি এ ধরনের কিছু নিয়ম শিখিয়ে দিয়েছিলেন। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল ছায়া খুবই ভালো ফলাফল করেছে। এ থেকে বোঝা যায় ছায়ার স্মৃতির উন্নতি হয়েছে। কেননা, সে পাঠ্যবিষয় মনে রাখতে পেরেছে বলেই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পেরেছে।
পরিশেষে উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আমনো বেগমের পরামর্শ ছায়ার মতো অন্য শিক্ষার্থীদের স্মৃতিকে উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে।
অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিক্ষণ হলো কোনো সমস্যা সমাধানে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে সঠিক সমাধানের আবিষ্কার, যা প্রাথমিকভাবে প্রচেষ্টা ও ভুল সংশোধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বলবর্ধক উদ্দীপক বা উদ্দীপক প্রতিক্রিয়া সংযোগ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে।
বলবৃদ্ধি বা বলবর্ধক শিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা অবস্থা যা সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। সঠিক প্রতিক্রিয়া করার পরও যদি ক্ষুধার্ত প্রাণী খাবার না পায় তাহলে সে এই প্রতিক্রিয়াটি আর করবে না। আবার বলবর্ধক পেলে প্রাণীর সঠিকভাবে ওই প্রতিক্রিয়া পুনরায় করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এভাবে সংযোগকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বলবর্ধক শিক্ষণকে ত্বরান্বিত করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!